এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং (পার্ট-২)


এর আগের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করেছিলাম এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর পার্ট-১ এ ৫টি টিপস নিয়ে। এরকম আমাদের যথাক্রমে মোট ৩০টির মতো টিপস দেয়া হবে। মোট ৬টি পর্বে আমাদের এই এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর জার্নি নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে আমাদের প্রথম পর্ব হয়েছে। এখন আমরা এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর পার্ট-২ নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন আর কথা না বাড়াই সরাসরি আমাদের আলোচনাতে চলে যাওয়া যাক:


৬. প্রফিট লস চেক


কোনো পণ্য নিয়ে কাজ করার পূর্বে আপনাকে এর প্রফিট লস নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে এগোতে হবে।‌ কেননা আপনি যদিই আপনার পণ্যের প্রফিট লস নিয়ে না ভাবেন তবে আপনি সহজে আগাতে পারবেন না। আগাতে পারবেন তবে সেটা দীর্ঘ সময়ের জন্য না। কেননা আপনার কম্পিটিটর তো আর বসে থাকবে না। তাই আপনি যদি আপনার কম্পিটিটরকে টেক্কা দিতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে আপনার পণ্যের প্রফিট লস চেক করে নিতে হবে। বড় এবং প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি সবসময় তাদের প্রফিট লস চেক করেই মাঠে নামে। তারা কখনো বোকামি করেনা।


অনেকেই রয়েছেন যারা কিনা এই প্রফিট লস চেক সম্বন্ধে অবগত নন। মূলত কোনো পণ্যের প্রফিট লস চেক বলতে বোঝায় আপনি যে পণ্যে নিয়ে ব্যবসা করবেন তার কতটুকু দাম আপনাকে ধরতে হবে। কতটুকু ধরলে আপনার মুনাফা একটা নির্দিষ্ট স্কেলে থাকবে। কতটুকু করলে আপনার লস হবে না। কতটুকু করলে আপনি আপনার কম্পিটিটরকে সহজেই বিট করতে পারবেন। এই সব বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তা করাকেই বলা হয় প্রফিট লস চেক। কেননা আপনি লোভ করে এমন দাম নির্ধারণ করবেন না যা আপনাকে সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তি দেয়। কেননা মনে রাখবেন আপনি স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবসা করতে আসেননি আপনি এসেছেন দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবসা করতে। হ্যা আপনি যদি অল্প কিছুদিন করতে চান তাহলে এক বিষয়। তবে প্রফেশনালি ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই প্রফিট লস চেক বাধ্যতামূলক।


৭. কি-ওয়ার্ড রিসার্চ


হুম আম জানি আপনি এখন কি ভাবছেন। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন এখানে তো এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে। কি-ওয়ার্ড নিয়ে আলোচনা কেন? আমরা তো এখানে এস.ই.ও নিয়ে জানতে আসি নি। হ্যা ভাই আপনি ঠিক বলেছেন আপনিও এখানে এস.ই.ও নিয়ে জানতে আসেননি আর আমরাও এখানে এস.ই.ও নিয়ে আলোচনা করতে আসি নি। কিন্তু কি-ওয়ার্ড কেন? আচ্ছা একটু ক্লিয়ার করে নিই।


মূলত কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করি কেন? এস.ই.ও করতে গেলে কি-ওয়ার্ড লাগে তাই তো? কেন লাগে? কারণ সার্চ ইঞ্জিনে উক্ত কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে যেন সবার আগে আসে তাই তো? আচ্ছা এবার বলি ফেসবুক ও কিন্তু একটি সার্চ ইঞ্জিন। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? আমি আপনাকে বিশ্বাস করিয়েই ছাড়বো। আমরা ফেসবুকে অনেক কিছুই সার্চ করি। কিছু সময় সার্চ করলে দেখা যায় অনেক পেইজ বা গ্রুপ সবার আগে আসে আবার কিছু রয়েছে যা সবার শেষে আসে। কেন এমন হয়? এটাই হচ্ছে কি-ওয়ার্ডের খেলা। দেখবেন তারা তাদের পেইজে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে এমনভাবে রেখেছে যে তাদের কি-ওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে সেই পেইজ পাওয়া যায়। এখন আপনি বলতেই পারেন আমি কোন কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করবো। আপনি এফেক্টিভ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। কারণ এমন কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করবেন যা ট্রেন্ডি।‌ কারণ সেগুলো আপনাকে বেষ্ট রেজাল্ট এনে দিতে বেশি সক্ষম।


৮. মার্কেটিং স্ট্রাটেজি


এফ কমার্স নিয়ে তো অনেক আলোচনা হলো। এবার আমরা এরম গভীরে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। যার প্রথম ধাপ হচ্ছে আপনার ব্যবসায়ের জন্য সঠিক মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ঠিক করে ফেলা। আপনার সব ঠিক প্রোডাক্ট ঠিক, সঠিক প্রফিট লস চেক করে নিয়েছেন কিন্তু আপনি আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ঠিক করেননি কিংবা করলেও ভুল করেছেন তবে আপনার সব কাজ জলে গেলেও আপনার করার কিছু থাকবে না। কারণ প্রত্যেকটি ব্যবসায়ের ভিত শক্ত করে দেয় এর সঠিক মার্কেটিং স্ট্রাটেজি। তাহলে ভাবুন আপনি যদি আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি নিয়ে অবগত নাই থাকেন তাহলে বুঝতে হবে আপনি সঠিক ট্রাকে নেই। তাই আগে একটু শান্ত হয়ে বসে নিজের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ঠিক করে নিন।


এখন আপনার মধ্যে অনেক প্রশ্ন আমি কিভাবে আমার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ঠিক করবো বা কিভাবে আমি মার্কেটিং করলে আমার পণ্য,সেবা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপকৃত হবে। প্রথমত ঠিক করুন আপনি ফেসবুকে কিভাবে আপনার পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করবেন। মূলত আপনি আপনার নিজের তৈরি ফেসবুক পেইজ থেকেও মার্কেটিং করতে পারেন আবার আপনি একটা ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও করতে পারবেন। তবে কোথায় করবেন তা আপনাকেই সিলেক্ট করতে হবে। এরপর দেখতে হবে আপনি কত বছর বয়সীদের টার্গেট করছেন এছাড়া তাদের কি আপনার পণ্যের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট আছে কিনা সেটাও ভাবতে হবে। মূলত এইভাবেই আপনি আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি সেট করতে পারেন তবে খুবই সতর্কভাবে করবেন।


৯. মার্কেটিং বনাম শপিং


আমরা এই এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর এই জার্নিতে যে শুধুই ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করবো তা কিন্তু নয়। বরং আমরা আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। এই যেমন একটা ইন্টারেস্টিং টপিক নিয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তা হচ্ছে মার্কেটিং বনাম শপিং। আচ্ছা এমন কি হয়েছে আপনি ঈদের জন্য মার্কেট থেকে জামা কাপড় কিনে আনলেন এবং আপনার কাজিনকে বললেন তার মার্কেটিং হয়েছে কিনা? আবার সেও বলে ঈদের মার্কেটিং করেছো কিনা। আচ্ছা আসলেই কি এটাকে মার্কেটিং বলে? এটা নিয়েই এই পয়েন্টটাতে আলোচনা হবে আর কি।


মার্কেটিং বলতে বোঝায় পণ্যকে ক্রেতার সামনে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং তাকে পণ্য কিনতে প্ররোচিত করা। এবং তাকে পণ্য কিনিয়ে তাকে স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করার যাবতীয় প্রক্রিয়াকে বলা হয় মার্কেটিং।


আর আমরা যখন বাজার থেকে কোনো পণ্য কিনে আনি তখন সেটিকে বলা হয় শপিং।


অর্থাৎ, আমরা পণ্যের মার্কেটিং করি মূলত ক্রেতাকে উক্ত পণ্য শপিং করানোর জন্য ‌ আসলে আমরা এতদিন যাকে মার্কেটিং করা বলতাম তা কিন্তু মার্কেটিং ছিলো না। সেটি ছিলো শপিং। তাই এখন থেকে মার্কেট জামা কাপড় কিনে এসে ভুলেও বলবেন না মার্কেটিং করে এলাম বলবেন যে শপিং করে এলাম।


১০. মার্কেটিং কি আদৌ বৃথা যায়?


অনেকেই একটা কথা বলে থাকে। ভাই আমি আমার পণ্যের বিক্রির জন্য মার্কেটিং করেছি কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হলো না। উল্টো আমার মার্কেটিংটা বৃথা গেল। আচ্ছা আসলেই কি মার্কেটিং কি বৃথা যায়? এখন প্রশ্নটা যদি কেউ আমাকে করে আমি ডিরেক্ট‌ বলি মার্কেটিং কখনোই বৃথা যায় না।‌ হ্যা বৃথা যায় যদি না আপনি মার্কেটিং এর মানে বোঝেন। আপনার কাছে মার্কেটিং মানে যদি হয় প্রোডাক্ট‌ সেল তবে আপনার মার্কেটিং বৃথা গেলেও আমি অবাক হবো না।‌ কারণ মার্কেটিং এর কাজ হলো পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাকে অবহিত করা এবং পণ্য বেচার চেষ্টা করা। তবে কাস্টমার যদি আপনার পণ না কিনে তবে কেন কিনছে না সেটি নিয়ে অনুসন্ধান করুন। তবে ডিরেক্ট বলে বসবেন না মার্কেটিং বৃথা গেছে। এমন হতে পারে আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজিতে ভুল ছিলো। অধিকাংশ ব্যবসায়ে মার্কেটিং স্ট্রাটেজিতে ভুলটা বেশিই হয়ে থাকে।


এই আর্টিকেলে ছিলো এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর ২য় পর্ব। পরের আর্টিকেলে এর তৃতীয় পর্ব আসবে। তৃতীয় পর্বে আপনি আরো ৫টি বিষয় নিয়ে জানতে পারবেন।