এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং (পার্ট-৩)

আবারো স্বাগতম আপনাদের এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর সিরিজে। আমাদের এই সিরিজের ৬টি পর্বের মধ্যে ২টি পর্ব দেয়া হয়েছে। আজ এর তৃতীয় পর্ব। মোট ৩০টির মতো টিপস ৬টি পর্বে শেয়ার করা হবে। এখানে আপনারা এফ কমার্স ব্যবসায়ের একটা সম্মক ধারণা পেয়ে যাবেন খুব সহজেই। আর সাথে সাথে আমরা ফেসবুক মার্কেটিং এর জার্নিও শেয়ার করবো। আর হ্যা পাশাপাশি কিছু মজার আলাপ ও থাকবে। যাই হোক আর কথা না বাড়াই চলুন চলে যাই আমাদের তৃতীয় পর্বে:


১১. এস.ই.ও অপটিমাইজ ফেসবুক পেইজ তৈরি


কি এস.ই.ও অপটিমাইজ ফেসবুক পেইজ? কি মনের মধ্যে নিশ্চয় এই প্রশ্নটা একবার হলেও এসেছে। তাই না? আপনি হয়তো ভাবছেন আচ্ছা এস.ই.ও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটের নাম তো শুনসি। আবার এস.ই.ও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট রাইটিং এর নাম ও শুনসি। কিন্তু এস.ই.ও অপটিমাইজড ফেসবুক পেইজ আবার হয় নাকি। হ্যা অবশ্যই হয়। কেন হবে না বলুন তো? আচ্ছা কেমন হয় বলুন তো মানুষ কোনো কিছু একটা লিখে ফেসবুকে সার্চ করার পর আপনার পেইজ পেল? অবশ্যই ভালো হয় তাই না? আচ্ছা তো কিভাবে একটা ফেসবুক পেইজকে এস.ই.ও অপটিমাইজ করা যায়? এবার সেটা নিয়েই আলোচনা করবো। তো এবার আলোচনা করা যাক কিভাবে একটি ফেসবুক পেইজকে এস.ই.ও অপটিমাইজ করা যায়।


প্রথমত স্বাভাবিক নিয়মে আপনি পেইজ অপশনে গিয়ে তারপর ক্রিয়েট পেইজে যাবেন। তারপর আপনি আপনার পেইজের নাম ও ক্যাটাগরি যা দেয়ার তা দিবেন। এরপর ফটো চাইবে প্রোফাইল ও কভার ফটোর। আপনি সেটা দেয়ার আগে আপনার পিসির যে ফোল্ডার থেকে নিবেন সেটতে আপনার পেইজের নাম দিবেন এমনকি ইমেজেও। এটাকে বলে ইমেইজ অপটিমাইজেশন। এরপর ক্রিয়েট পেইজে দিয়ে পেইজ তৈরি করে নিন। এখানে কাজ শেষ না বরং শুরু। এবার আপনি যে কভার আর প্রোফাইল পিক দিয়েছেন সেখানে ক্যাপশনে যাবেন এবং সেখানে কিছু লিখে এবং সেখানে সর্বনিম্ন ১০টা এবং সর্বোচ্চ ৩০টা হ্যাশট্যাগ দিবেন‌। অবশ্যই ট্রেন্ডি এবং পপুলার হ্যাশট্যাগ। এখন আপনি যা পোস্ট করবেন প্রতিটায় হ্যাশট্যাগ দিবেন এমনকি প্রতিটা হ্যাশট্যাগেই পেইজের নাম দিবেন। এছাড়া ডেসক্রিপশন এবং এবাইউটে ইনফরমেশন গিয়ে ফিল আপ করে এরপর সেখানেও হ্যাশট্যাগ দিবেন। এবার দেখবেন আপনার পেইজ এস.ই.ও অপটিমাইজ হয়ে গেল। এভাবেই মূলত একটি ফেসবুক পেইজকে এস.ই.ও অপটিমাইজড করা হয়।


১২. পোস্ট কপি/এড কপি


পেইজ তৈরি শেষ। এখন তো ঘর বানালেন। ঘর বানানোর পর ঘরের আর কি করেন? অবশ্যই ঘরটাকে সাজান তাই না? এখন আপনার পেইজটা সাজানোর পর এখন আপনার পেইজটা একটু গোছাতে হবে। কিভাবে গুছাবেন? অবশ্যই পেইজে আপনার পোস্ট করতে হবে। তবে একটা ভুল করে থাকে সেটা হলো একটা পেইজ ওপেন করার পরপরই দুমছে ইনভাইট দেয়া শুরু দেয়। কিন্তু এটা মোটেও ঠিক নয়। কেন? কারণ হচ্ছে গিয়ে আপনার পেইজে গিয়ে মানুষ যদি দেখে পেইজে কিছুই নেই। তাহলে কি করে বুঝবে যে আপনার পেইজের উদ্দেশ্য কি? পেইজের কাজ কি? সেটা যদি আপনি আপনার ট্রাফিককে বোঝাতে না পারেন তবে কি আপনার ট্রাফিক আপনার পেইজে থাকবে? কখনোই থাকবে না


আচ্ছা এই পোস্ট কপি নিয়ে একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। আচ্ছা ধরুন আপনি একটা দোকান দিয়েছেন আপনার এলাকায়। এখন আপনি দোকানে কোনো প্রোডাক্ট উঠাননি কিন্তু লোকদের বলছেন ধুমছে যে আপনার দোকান আছে আসেন ঘুরে যান। কিন্তু লোকেরা দোকানে আসার পর দেখলো আপনার দোকানে কিছূই নেই। ভাবুন তো তখন আপনি কি মনে করবেন? ফেসবুক পেইজটাও ঠিক এমনই। আপনি পেইজ তৈরি করার পর কাজ শেষ না। মানুষকে ইনভাইট দেয়ার আগে অন্তত কমপক্ষে ১০-১৫টা পোস্ট করার পর ইনভাইট দেয়া শুরু করুন। এতে করে যারা আপনার পেইজে আসবে তারা আর যাবে না।‌ আরেকটা কথা সেটা হলো অনেক সময় পেইজে ইনভাইট দিয়ে বেশি লাইক নাএ পাওয়ার মূল কারণ এটিই।


১৩. ট্রাফিক আনানোর উপায়

পেইজ তৈরি করেছেন। আপনার এফ কমার্স এর শুরু অলরেডি হয়ে গিয়েছে। মানে আপনার অনলাইন দোকান শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন কি শুধু দোকান তৈরি কিংবা সাজানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কি হবে? অবশ্যই না। তাহলে কিসের অভাব রয়েছে? দোকানে কাস্টমারের অভাব। মানে হচ্ছে আপনি যে পেইজ করেছেন এখন আপনার পেইজে ট্রাফিক লাগবে। ট্রাফিক ছাড়া আপনি কার কাছে গিয়ে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দিবেন? তাই পেইজে একটা স্মার্ট এমাউন্টের ট্রাফিক দরকার। তবে এই মুহূর্তে আমি পেইড ট্রাফিক নিয়ে আলোচনা করবো না।‌ এখন আমি মূলত ওর্গানিকভাবে কিভাবে ট্রাফিক আপনার পেইজে আনবেন মূলত সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।


তো একটা জিনিস বুঝতেই পারছেন সেটা হলো আপনি যখন পেইড মেথডে ট্রাফিক আপনার চেষ্টা করবেন তখন সহজেই আনতে পারবেন। কিন্তু অর্গানিকভাবে এত সহজে ট্রাফিক আনতে পারবেন না। আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে‌। তো কিভাবে অর্গানিকভাবে কিভাবে আনবেন তা নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক। প্রথমত পেইজের ইনভাইট অপশনে গিয়ে ইনভাইট অপশনে গিয়ে ইনভাইট করবেন। এছাড়া আপনি আপনার ফ্রেন্ডদের বলতে পারেন তারা যেন তাদের আইডি থেকে তাদের ফ্রেন্ডদের ইনভাইট দেয়। এছাড়া বিভিন্ন বড় গ্রুপগুলোতে নজরে রাখুন। সেখানে গিয়ে আপনি আপনার পেইজের প্রচার বাড়াতে পারেন। এছাড়াও আপনি আপনার পেইজকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের কমেন্টে গিয়ে মেনশন করতে পারেন। এছাড়া কিছু বড়বড় ফেসবুক পেজ ওনারদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। তাদের বলবেন যেন তারা আপনার পেইজ রেফার করে। এটা করতে পারলে আপনি হিউজ এমাউন্টের একটা ট্রাফিক খুব সহজেই গেইন করতে পারবেন। এভাবে করে আপনি অর্গানিকভাবে অনেক ট্রাফিক সহজেই পেয়ে যাবেন।


১৪. ট্রাফিককে কাস্টমারে রূপান্তরের নিয়ম


ট্রাফিক কেন আনি আমরা? কারণ হচ্ছে আমার পণ্য বা সেবার প্রচার যেন আমি অনেক মানুষের সামনে সহজেই করতে পারি। কিন্তু ট্রাফিক শুধু আনলেই কি হয়ে যাবে? অবশ্যই না। ট্রাফিককে কাস্টমারে রূপান্তর করতে হবে। কেননা সব ট্রাফিক কাস্টমার নয়। আপনার যদি ১০০০ ট্রাফিক থেকে থাকে তবে তার মধ্যে আপনি কি আশা করবেন যে আপনার ১০০০ জন কাস্টমার পাবেন? অবশ্যই না। আপনি এখান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ জন পেতে পারেন। তাই ট্রাফিককে কাস্টমারে রূপান্তরের জন্য আপনাকে ট্র্যাফিককে আকৃষ্ট করতে হবে।


ট্রাফিককে বোঝাতে হবে কেন এই পণ্যটা তার কেনা উচিত। আপনি যদি মানুষকে এই পণ্যের গুরুত্ব বোঝাতে না পারলেন তাহলে মানুষ আপনার থেকে কেন কিনবে বলেন তো? তাই টোপ দিয়ে যেমন মাছ ধরেন তেমনি টোপ দিয়ে কাস্টমার আনতে হবে।


১৫. বেবি মার্কেটিং বনাম প্রোপার মার্কেটিং

এবার একটু ভিন্ন বিষয়ে কথা বলবো। ঐ যে বলেছিলাম না মাঝে মধ্যে আমার বিভিন্ন আউট বিষয় নিয়েও কথা বলবো যাতে করে বোরিং না লাগে। তো চলুন শুরু করা যাক। আমরা আমাদের পণ্য, সেবা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কেটিং করে থাকি। কিন্তু আপনি কি বলতে পারবেন আপনি প্রোপারলি মার্কেটিং করছেন? আপনি যে বেবি মার্কেটিং করছেন না তার কি গ্যারান্টি? আচ্ছা বেবি মার্কেটিং আর প্রোপার মার্কেটিং এর উদাহরণটা একটু দিই তবেই বুঝতে পারবেন।


মি. রহিম টি-শার্ট বিক্রি করেন। তিনি লিখলেন আমার কাছে এই এই প্রোডাক্ট রয়েছে আপনি কিনুন। কিন্তু মি.জব্বার ও টি-শার্ট বিক্রি করেন তিনি লিখলেন কেন এই টি-শার্ট কিনবেন এবং কি কি আছে এতে। এখন আপনিই বলুন কোনটা বেশি এফেক্টিভ। অবশ্যই মি.জব্বারের। আশা করি বুঝতে পেরেছেন বেবি মার্কেটিং আর প্রোপার মার্কেটিং এর এই পার্থক্যটা।
আজকের এই তৃতীয় পর্বে এই ৫টি টিপস ছিলো। পরের পর্বে আরো ৫টি টিপস নিয়ে হাজির হবো ইনশাল্লাহ। 

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.