এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং (পার্ট-৪)

এফ-কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর চতুর্থ পার্ট নিয়ে হাজির হলাম। আমাদের ৬ পর্বের এই সিরিজে প্রথম তিনটি পর্বে আপনাদের বেশ ভালোই সাড়া মিলেছে। আর তাই আমরাও বেশ আগ্রহ সহকারে করে যাচ্ছি। আজ এর চতুর্থ পর্ব। আর মাত্র দুটি পর্বের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়ে যাবে আমাদের এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর এই মেগা সিরিজটি। তবে ভালো লেগেছে যে আপনারা এটা ভালভাবে গ্রহণ করেছেন। তো চলুন শুরু করা যাক আমাদের আজকের চতুর্থ পর্ব নিয়ে জার্নি:


১৬. ট্রেডিশনাল বনাম ডিজিটাল মার্কেটিং 


অন্যান্য পর্বগুলোতে মাঝখানে কিংবা শেষে একটু ভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তবু আজ ভাবলাম একটু উল্টো করে আলোচনা করবো। আর তা হলো আজ ভিন্ন বিষয়কে আগে আলোচনা করে পরে আমাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আলোচনা করবো। তো মার্কেটিং আমরা আমাদের ব্যবসায়ের জন্য তো সবাই কমবেশি করি তাই না? কেনই বা করবো না। কারণ কথায় আছে না, প্রচারেই প্রসার। তবে মার্কেটিং এখন আর আগের মতো নেই। স্পেশালি ডিজিটাল মার্কেটিং আসার পর তো এর ক্ষেত্রটাই বদলে গিয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। যা আমাদের জানা খুব দরকার। কেননা এটি জানলে আমরা আমাদের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি সহজেই সিলেক্ট করতে পারবো। 


প্রথমত বলতে গেলে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এ আপনি খুব স্বল্প জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এ আপনি স্বল্প জায়গায় নয় বরং পুরো পৃথিবীতে খুব সহজেই বিচরণ করতে পারবেন। ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এ আমরা খুব স্পেসিফিকভাবে টার্গেটিং করতে পারি না। এটার জন্য আমাদের অনেক কিছু পোহাতে হয়। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এ আমরা খুব স্পেসিফিকভাবে টার্গেটিং করতে পারি। এছাড়া ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এ মার্কেটিং প্রাইস খুব বেশি হয়ে থাকে তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এ মার্কেটিং প্রাইস খুব সামান্যই হয়ে থাকে। আর ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এ আপনার ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন কখনো গ্যারান্টেড থাকে না। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এ ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন নির্দিষ্ট থাকে যা আপনার জন্য সুবিধাজনক হয়।


১৭. চ্যাটবট


আপনি আপনার পেইজ তৈরি করেছেন। আপনার পেইজ এখন এস.ই.ও অপটিমাইজ। আপনার পেইজে এখন অনেক পোস্ট হচ্ছে। এছাড়া আপনার পেইজে এখন অনেক ট্রাফিক। এমনকি আপনি আপনার পেইজের ট্রাফিককে কাস্টমারে রূপান্তর করেছেন। এখন নিয়মিত আপনার পেইজে কাস্টমারদের আনাগোনা রয়েছে। তবে আপনি একটা সমস্যায় ভুগছেন তা হলো আপনার পেইজে অনেক মেসেজ আসে আর আপনি অনেক মেসেজের রিপ্লাই দিতে পারছেন না। আর মেসেজ গুলোর রিপ্লাই দিলেও তা সময়মতো রিপ্লাই দিতে পারছেন না। এর ফলে আপনার কাস্টমাররা আপনার প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ছে। কি এই সমস্যায় কি আপনি পড়ছেন? এটি একটা কমন সমস্যা যা অনেক মানুষ ফেস করে থাকে। আর একটা কথা আছে কাস্টমার পাওয়া সহজ হলেও কাস্টমার ধরে রাখাটা কঠিন।


কিন্তু এই সমস্যাটা ঝুলিয়ে রাখলে তো হবে না। এটাকে একটা সমাধান করতে হবে। কেননা সমাধান না করলে আপনার কাস্টমাররা আপনার প্রতি বিরক্ত হতে পারে। তাই এর সমাধানটা খুবই জরুরি। আপনার এর জন্য অটো মেসেজিং ইউজ করা দরকার। আপনার কাস্টমার কি কি জানতে চায় বা কি কি মেসেজ করতে পারে তা নিয়ে। এই কাজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে চ্যাটবট।‌ আর সবচেয়ে ভালো চ্যাটবট হচ্ছে মেনিচ্যাট। তবে এই চ্যাটবটের ব্যবহার একটু সীমিত রাখা ভালো। অনেকেই কারণে অকারণে ব্রোডকাস্ট করে। এতে অনেকে বিরক্ত হয়। ফেসবুক যদি ধরতে পারে আপনি কোনো থার্ড পার্টি সফটওয়্যারের সহায়তার ফেসবুকের ব্যবহারকারীকে বিরক্ত করছেন তবে ফেসবুক আপনাকে যেকোনো সময় ব্যান করতে পারে। 


১৮. ফানেলিং

ফানেলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আমরা যারা এফ কমার্স সাথে যুক্ত তারা কাস্টমারদের এই ফানেলিং‌ করে থাকি। ফানেলিং ছাড়া আপনি আপনার কাস্টমার সহজে বের করতে পারবেন না। কারণ ফানেলিং মানে হচ্ছে ছেকে বের করে আনা। অর্থ্যাৎ, ফানেলিং এরা মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ক্লায়েন্ট খুব সহজেই ছেকে বের করে এনে তাকে স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করতে পারবেন। আর‌‌ বর্তমানে সব ব্যবসায়ে ফানেলিং খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ফানেলিং এর একটা মডেল রয়েছে। যাকে আমরা AIDA মডেল নামেই চিনে থাকি। নিচে আমরা এই ফানেলিং এর বিখ্যাত AIDA মডেল নিয়ে বিস্তারিত একটি আলোচনা করবো।


Awareness, Interest, Desire and Action এই চারটির সম্মিলনে গঠিত হয়েছে AIDA মডেল। এই AIDA মডেলের মাধ্যমে প্রথমে আপনার ট্রাফিকদের মধ্যে Awareness তৈরির কাজ করবেন। আপনার পেইজে প্রতিদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পোস্ট করে তাদের সতর্ক করবেন। এরপর এই সতর্কের মাধ্যমে তাদের মধ্যে Interest তৈরি করবেন। কিভাবে Awareness এর পর তাদের আরো ইন্টারেস্টিং অফার কিংবা আরো ইন্টারেস্টিং কিছু তথ্য দিবেন। ব্যস তারা ফানেলিং এর গভীরে প্রবেশ করলো। এবার তাদের আপনি পণ্য কেনার জন্য প্ররোচিত করুন এবং তারা একসময় পণ্য কেনার জন্য Desire বা ইচ্ছে পোষণ করবে। এবার তাকে সরাসরি একশন নিতে বাধ্য করুন। দেখবেন সে ফানেলিং এ পড়ে নিজে নিজেই একশন নিবে।


১৯. পেইড মার্কেটিং স্ট্রাটেজি


এর আগে একটা পয়েন্টে মার্কেটিং স্ট্রাটেজি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম নিশ্চয়ই মনে আছে। এবারো সেরকম কিছুই করবো। তবে এবার কিছুটা ভিন্ন আর কি। অর্থাৎ, ফেসবুক মার্কেটিংয়ে যে পেইড মার্কেটিং করি সেটার স্ট্রাটেজি নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। অর্থাৎ, কেমন হওয়া উচিত আপনার পেইড মার্কেটিং স্ট্রাটেজি। মূলত তখন আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে আপনি পেইড মার্কেটিং এ যাবেন তখন আপনাকে আরো অনেক বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে। 


প্রথমত ভাবতে হবে আপনি কাদের কাদের টার্গেট করবেন। আপনার পণ্যের আসল ক্রেতা কি ছেলে নাকি মেয়েরা। কত বছর বয়সী পুরুষ/মহিলাদের টার্গেট করা জরুরি। এছাড়া কোন কোন এলাকায় আপনার প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দেয়া উচিত এবং কোন কোন জায়গায় আপনার প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন না দিলেও সমস্যা নেই। এই বিষয় নিয়ে পূর্বে থেকে চিন্তা ভাবনা করে তারপর আপনার পেইড মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ঠিক করার কাজকেই মূলত বলা হয়ে থাকে পেইড মার্কেটিং স্ট্রাটেজি। 


২০. পেইড মার্কেটিং বাজেট প্ল্যান


এই বিষয়টা নিয়ে অনেকেই কনফিউজড থাকে। আরো ক্লিয়ারলি বলতে গেলে অধিকাংশ মানুষ বলে থাকে ভাই পেইড মার্কেটিং এ আমার কত টাকা বাজেট রাখা উচিত। এখন এটা কখনোই নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। এটার জন্য আপনাকেই মেইনলি স্টাডি করা উচিত। যে কতটুকু পরিমাণ বাজেট রাখলে আপনার জন্য সুবিধাজনক। তবে একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন তা হলো বাজেট অবশ্যই একটা স্ট্যান্ডার্ড এমাউন্টে রাখবেন। এমন রাখবেন না যা আপনাকে সুবিধা দিতে পারবে না।


যারা ফেসবুক মার্কেটিং করে তারা একটা জিনিস নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন তা হলো অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছে তারা কিছু বুঝুক বা না বুঝুক তারা একটা জিনিস ঠিক বুঝে তা হলো ৫ ডলার বুষ্টিং। তারা কিছু হলেই বলবে ভাই ৫ ডলার বুষ্টিং করাবো‌। কিন্তু আপনার প্রোডাক্ট যে ৫ ডলারে হিট হবে এমন কিন্তু না। আরেকটা কথা হচ্ছে ফেসবুক এখন আগের চেয়ে অনেক অনেক বদলে গিয়েছে। আগে ৫ ডলারে একটা রেজাল্ট পাওয়া যেত এখন ৫ ডলারে আগের মতো রেজাল্ট পাওয়ার আশা করাই বোকামি। তবে এখন ৫০-১০০ বলার যদি আপনি বাজেটে রাখেন তবে তা আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে।


আর মাত্র দুটি পার্টের মধ্য দিয়েই শেষ হবে এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর এই মেগা সিরিজটি। পরের পর্বটি খুব দ্রুত এসে পড়বে। ততক্ষন পর্যন্ত সাথেই থাকুন।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.