এফ-কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং (পার্ট-৫)

দেখতে দেখতে আমরা এই এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর শেষ দিকেই চলে এলাম। এই পর্বের পর আর একটা পর্ব হবে। তারপরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়ে যাবে এই এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর মেগা সিরিজটি।‌ মোট ৬টি পর্বে প্রতিটি পর্বে ৫টি করে মোট ৩০টি টিপস নিয়ে আমাদের এই মেগা সেগমেন্টটি। তো চলুন আর কথা না বাড়াই। এখন আমাদের এই এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর ৫ম পর্ব এর আলোচনা শুরু করা যাক:


২১. লেজার টার্গেটিং বনাম ব্রোড


পেইড মার্কেটিং যখন আমরা করবো তখন আমরা অনেক ধরনের টার্গেটিং করে থাকি। এই টার্গেটিংটা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আশা করি আলাদা করে বলতে হবে না। কেননা আপনি যদি প্রোপারভাবে টার্গেটিং করতে পারেন তবে আপনার পণ্য বা সেবা সকলের কাছে সঠিকভাবে পৌছায়। অন্যথায় সঠিকভাবে পৌছানো বিলম্ব হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ভুলভাল টার্গেটিংটাও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। আপনি অবশ্যই চাইবেন না যেন ভুলভাল কোনো টার্গেটিং হোক। কেননা এটা হলে আদোতে আপনার ক্ষতিটাই বেশি হবে।‌ টার্গেটিং কয়েক ধরনের রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লেজার টার্গেটিং‌ ব্রোড। নিচে এ দুটি নিয়ে আলোচনা করা যাক।


লেজার টার্গেটিং‌ও ব্রোড টার্গেটিং‌‌ সম্বন্ধে আমাদের জানা থাকা ভালো। কারণ আমরা যদি এর সঠিক ব্যবহার জানতে পারি তবে কাজ আপনার জন্য সহজ হবে। তো ব্রোড টার্গেটিং বলতে যা বোঝায় তা হলো টার্গেটিং করার সময় কোনো বিশেষ দিক চিন্তা না করে সবাইকে এক যোগে টার্গেটিং‌ করা। আর লেজারে টার্গেটিং‌ বলতে বোঝায় আপনি যাচাই বাছাই করে বুঝে শুনে তারপর টার্গেটিং করা। অর্থাৎ, লেজার টার্গেটিং এ আপনি অনেক কিছু যাচাই বাচাই করে তারপর টার্গেট করতে পারেন।‌ আর ব্রোড টার্গেটিং এ যাচাই-বাছাই এর কোনো সুযোগ নেই। এ দুটোকে আলাদা করা মুশকিল। আর ক্ষেত্রবিশেষে এ দুটো এক সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে লেজার টার্গেটিংটা একটু বেশি‌ বেনিফিট দিয়ে থাকে।


২২. কাস্টম অডিয়েন্স


আপনি যখন আপনার পেইজের জন্য এড রান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন অনেক বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। যেমন-পেইড মার্কেটিং স্ট্রাটেজি, পেইড মার্কেটিং বাজেট প্লান, টার্গেটিং ইত্যাদি। এর মধ্যে আরেকটা হলো এড রান করার পর আপনার অডিয়েন্স সংরক্ষণ করে রাখা। আমার যখন এড রান করে থাকি তখন একটা অপশন থাকে সেটি হচ্ছে অডিয়েন্স এই অডিয়েন্স এর এই অপশনে আপনি খুব সহজে ই অডিয়েন্স সেগমেন্টেশনের কাজ করতে পারবেন। আর এই কাজ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না‌ আশা রাখি। কেননা বিগত টিপসগুলোতে আপনারা এটার সম্বনৈ কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন তাই আর আলাদা করে কথা বাড়ালাম না।


কাস্টম অডিয়েন্স। অডিয়েন্স সেগমেন্টেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কাস্টম অডিয়েন্স‌। এটি হলো আপনি কোন কোন অডিয়েন্স সিলেক্ট করছেন এবং চাইলে আপনি সেগুলো অন্য এ্যাডের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারেন। এখন একটা প্রশ্ন আসতে পারে তা হলো এই কাস্টম অডিয়েন্স কি বারবার ব্যবহারযোগ্য? এখন এখানে দুটি উত্তর দেয়া যায় হ্যা বলা যায় আবার নাও বলা যায়। হ্যা কারণ হচ্ছে আপনি চাইলেই এটিকে যখন তখন ব্যবহার করতেই পারেন। আর না কারণ সব এ্যাডেই যে আপনার এই অডিয়েন্স‌ সন্তুষ্ট থাকবে এমনটা কিন্তু না। তাই কাস্টম অডিয়েন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনি কাস্টম অডিয়েন্স তৈরির সময়ে একটু সতর্কতা অবলম্বন করে তৈরি করবেন।


২৩. লুক এ লাইক অডিয়েন্স


লুক এ লাইক অডিয়েন্সটা একটু অন্যরকম। এর মাধ্যমে আপনি চাইলে খুব সহজেই অন্যের কাছ থেকে অডিয়েন্স আপনার এখানে নিয়ে আসতে পারেন। মূলত লুক এ লাইক এ যে অডিয়েন্স সেভ হয়ে থাকে তা আপনি একটা পার্সেন্টের মাধ্যমে তা আগের চেয়ে ডাবল করে ফেলতে পারবেন। এই লুক এ লাইক অডিয়েন্সটা যে কতটা উপকারী তা এখানে শুধু লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না। এর জন্য আপনাকে একবার হলেও লুক এ লাইক অডিয়েন্সের প্র্যাকটিকাল ব্যবহার করা উচিত। তবেই আপনি বুঝতে পারবেন এর আসল‌ মজা। আশা করি বুঝতে পেরেছেন লুক এ লাইক অডিয়েন্সের গুরুত্ব।


২৪. ইমোশনাল কন্টেন্ট মার্কেটি


আপনি এ্যাড রান করছেন কিন্তু সফলতা লাভ করতে পারছেন না। এটা একটা কমন সমস্যা বলা যায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এই সমস্যায় একবার হলেও পড়েছে। তবে এরকম হলে একটু ধৈর্য্য ধরে বসুন। এবার একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবুন তো কোথায় আপনার ভুল হয়েছে। আপনার ভুল বের করার দায়িত্ব কিন্তু আপনার নিজের। তবে তাও কিছু রিসার্চের মাধ্যমে আহরিত জ্ঞান দিয়ে আপনাদের সমস্যা উদাঘাটনৈর একটু ক্ষুদ্র চেষ্টা করা যাক। বেশিরভাগ সময় ভুলটা হয়ে থাকে মূলত কন্টেন্টে। আমরা যখন এ্যাড কপি লিখি তখন দেখা যায় আমরা লিখে থাকি খুবই সামান্য কিছু বাক্য। আপনার কি সামাও কিছু বাক্য আপনার কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট? অবশ্যই না।


তবে এখন আপনার একটা বড় প্রশ্ন রয়েছে তাহলে কেমন কন্টেন্ট দেয়া উচিত। মূলত চেষ্টা করুন ইমোশনাল কিছু লিখতে। অর্থাৎ, ইমোশনাল কন্টেন্ট রাইটিং পারে আপনার জন্য একটা বেষ্ট রেজাল্ট নিয়ে আসতে। মনে করুন আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপনের সময় আপনি। পুরোনো দিনের কথা কিংবা শৈশবের কথা নিয়ে কিছু লিখে ইমোশনাল কিছু ডেলিভারি দেয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে এতে যে উপকার হবে তা হলো মানুষ তখন ইমোশনাল হবে তখন আপনার প্রোডাক্ট তার‌ আপনি না‌ বললেও। তাই চেষ্টা করুন বেশি করে ইমোশনাল কন্টেন্ট মার্কেটিং করার। এতে করে আপনার কাস্টমাররা আপনার থেকে সহজেই পণ্য কিনবে সর্বোপরি এই ইমোশনাল কন্টেন্টের জন্য কিন্তু আপনার পেইজটা ও ব্র্যান্ড হয়ে যাবে।


২৫. স্টোরি কন্টেন্ট মার্কেটিং


কন্টেন্ট লেখার সময় আপনার উচিত হচ্ছে অনেক দিক বিবেচনা করে দিলেন। যার মধ্যে রয়েছে কোন কন্টেন্টটা আসলেই আপনার জন্য সুবিধাজনক হবে। এর আগের পয়েন্টে বলেছিলাম যে ইমোশনাল কন্টেন্ট রাইটিং করাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর আপনার উচিত হবে স্টোরি কন্টেট রাইটিং নিয়ে কাজ করা। কেননা আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, স্টোরি কন্টেন্ট লিখলে তা অন্যরকম একটা দাম পড়েছে। আপনি নিজেই একটু ভাবুন তো এই ইমোশনাল কন্টেন্ট দিয়ে কথা বললৈ আপনি অনেক ঠিক কত সহজেই আপনার কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে পারেন। মূলত এই কারণের এই ইমোশনাল কন্টেট এত গুরুত্বপূর্ণ যে এটা আমাদের সরাসরি ব্রেইনে এটাক করে থাকে‌। আর তাই তো আমরা ইমোশনাল কন্টেন্ট নিয়ে আরো একটু আলোচনা করবো।
মূলত এই স্টোরি জিনিসটা বরাবর আমাদের টেনে থাকে। আপনি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন কিনা জানি না যখন কোনো একটা গল্প বলার মাধ্যমে আপনাকে প্রোডাক্ট কেনার জন্য প্ররোচিত করতে পারেন। তবে এই স্টোরি কন্টেন্ট মার্কেটিংটা মূলত আপনার জন্য একটা বেষ্ট রেজাল্ট এনে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। অনেকেই রয়েছেন যারা প্রোডাক্টের এই স্টোরি পড়ে প্রলুব্ধ হয়ে সহজেই পণ্য কিনে নিচ্ছে। এরকম সংখ্যা অনেক রয়েছে। তাহলে বুঝতে পারছেন এই স্টোরি মার্কেটিং এর পাওয়ারটা। একটু ঝোপ বুঝে যদি কোপ মারতে পারেন তবে খুব সহজেই আপনার কাস্টমারদেরকে আকৃষ্ট করতে পারবেন এবং তাকে পণ্য কিনতে প্ররোচিত করতে পারবেন। 


তো দেখতে দেখতে একেবারে শেষ দিকে চলে এলাম এই এফ কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং এর এই মেগা সিরিজটিতে। আর মাত্র একটি পর্বের পর শেষ হয়ে যাবে আমাদের এই সিরিজটি। তাই শেষ পর্ব পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.