এফ-কমার্স টু ফেসবুক মার্কেটিং (পার্ট-১)


এফ কমার্স বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয়। আচ্ছা কে এফ কমার্স করছে না একটু দেখান তো। একটু বাড়তি পয়সা কামানোর জন্য একটা পার্ট টাইম বিজনেসের জন্য আজকাল এই এফ কমার্স বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে। মূল কথা এই এফ কমার্স আমাদের বর্তমানের একটা মূল জায়গা হিসেবে দখল করে রয়েছে। কেননা একটি জিনিস কি জানেন? এই এফ কমার্স দিয়ে আজ অনেক ব্যবসা অনেক বড় পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এমনকি অনেক ব্যবসা রয়েছে যাদের অফলাইনে কোনো কিছু নেই কিন্তু তারা ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসাকে পরিচালনা করে চলেছে।


আজ আমাদের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে এফ কমার্সের এ টু জেড বিস্তারিত। যেখানে আপনি জানতে পারবেন। কিভাবে আপনি শাইন করতে পারবেন এই এফ কমার্স দিয়ে। এছাড়াও এর ক্যারিয়ার এবং এর আনুষাঙ্গিক সকল কিছু নিয়েই আলোচনা করা হবে। তাই এই লেখাটি আপনাদের জন্য হয়তো এফ কমার্সের দুয়ার খুলে দিবে। তাই এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তো আর দেরি না করে আমাদের এই জার্নি শুরু করা যাক।


১. এফ কমার্স কি?


এফ-কমার্স এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ফেসবুক কমার্স। আমরা যখন ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের পণ্য বা সেবা ক্রয় বা বিক্রয়ের কাজ করে থাকি তাকেই বলা হয়ে থাকে এফ-কমার্স। এখন অনেকেই এফ কমার্স ও ই-কমার্সকে গুলিয়ে ফেলবে। আসলে এখানে গুলিয়ে ফেলার মতো কিছু নেই। মূলত বলতে গেলে ই-কমার্স থেকে এফ কমার্সের উৎপত্তি। কেননা প্রথমে আসে ই-কমার্স। যাকে আমরা ইলেকট্রনিক কমার্স বা ইন্টারনেট ভিত্তিক কমার্স মানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসা করাকে বুঝি। ই-কমার্স না থাকলে এফ কমার্স কখনোই আসতো না। কারণ ই-কমার্স এর পর পর ফেসবুকেও যে ব্যবসা করা যায় তার ধারণার উৎপত্তি হয়েছে। আর যার জন্য ই-কমার্স থেকে এফ কমার্সে যাত্রা শুরু হয়েছে। এভাবেই এগিয়ে চলছে এফ কমার্স।


চলুন একটা ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে আপনাকে এফ কমার্স নিয়ে একটা সম্মক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা যাক। মি.রহিম একজন পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী। তিনি তার দোকানের মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকেন। তার ছেলে করিম তার সাথেই ব্যবসা করে থাকে। কিন্তু মি.রহিম অনলাইন কিংবা‌ ফেসবুক সম্পর্কে তেমন একটা বোঝেন না বললেই চলে। তবে তার ছেলের ফেইসবুক নিয়ে বেশ ভালো ধারণা আছে। তার ছেলে তার বাবার অনুমতি নিয়ে ফেসবুকে একটা পেইজ খুললো। যার নাম দিলো রহিম অনলাইন পাঞ্জাবি দোকান। এই নাম দিয়ে সে অফলাইন এবং অনলাইনে কাপড় বিক্রি করে। ছি যে মি.রহিমের ছেলে করিম অনলাইনে ব্যবসা করছে ফেসবুকের মাধ্যমে মূলত এটাই হচ্ছে ফেসবুক কমার্স। আশা করি আপনারা বেশ ভালো ধারণা পেয়েছেন।

২. এফ কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা


আমরা যেকোনো কাজ করার আগে তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে জানতে চাই। এফ কমার্সেও তার ব্যতিক্রম নয়। আপনি তো এফ কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয়ই জানতে চান তাই নয় কি? 


আচ্ছা তাহলে প্রথমে একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। গতবছরের রোজার ঈদের কথা মনে আছে? কি হয়েছিলো? করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য আমরা ঘরে লকডাউনের জন্য আটকা ছিলাম। সেইসময় আমারা অধিকাংশ মানুষ ঈদের জন্য জামা কাপড় কিনেছিলাম অনলাইনের মাধ্যমে। আর যখন অনলাইনের কথায় আসে তখন আমাদের ভরসার জায়গা হচ্ছে ফেসবুক। গতবছর অধিকাংশ জামা কাপড় আমরা ফেসবুকে বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে দেখে তারপর আমরা কিনেছিলাম। আর যার জন্য আমাদের ঘর থেকে বের হতে হয়নি। আমরা বেশ‌সহজেই করোনা থাকার পরেও আমরা সুষ্ঠুভাবে জামা কাপড় কিনতে সক্ষম হয়েছি।
আশা করি আপনারা এই ফেসবুক কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। যদি না হন তাহলে আরো কিছু কথা বলি। বর্তমানে অনেক ব্যবসা গড়ে উঠেছে ফেসবুকের মাধ্যমে। এমনকি অনেক ব্যবসা রয়েছে যাদের অফলাইনে কোনো প্রকার অস্তিত্ব নেই কিন্তু অনলাইনে তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার এমন অনেক ব্যবসা রয়েছে তাদের অফলাইনে ব্যবসা করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিলো না কিন্তু তারা অনলাইন দিয়ে শুরু করে আজ তারা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় জায়গাতেই কাজ করে যাচ্ছে। তাই বলা যায় যে, এফ কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং তা অপরিহার্য। 


৩. বাংলাদেশে এফ কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা


যদি এক কথায় বলতে হয় তবে এটাই বলবো যে বাংলাদেশে এফ কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং অপরিহার্য। কেন? কারণ একটু যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন তবে খেয়াল করে দেখবেন বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশি ব্যবহার করে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তো অনেক রয়েছে। এই যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিঙ্কডিন ইত্যাদি আরো অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু এদের মধ্যে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি। অর্থ্যাৎ, বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুক অনেক বেশি ব্যবহার করে থাকে। অনেক বেশি বললে বরং ভুল হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুক ব্যতীত অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমন সক্রিয় নেই বললেই চলে। 


আর এত মানুষ যখন আপনি সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছেন তখন আপনি কেন বসে থাকবেন বলেন তো? আপনি কি বসে থাকবেন না সময় কাজে লাগাবেন তা একান্তই আপনার ব্যাপার। যখন কথা আসে বাংলাদেশে এফ কমার্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তায় তখন বলতেই হয় যে বাংলাদেশের মানুষ ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে এফ কমার্সের গুরুত্ব। কেননা তারা ইতিমধ্যেই ফেসবুকে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অনেকেই আছে যাদের টাকা ইনকামের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে ফেসবুক। আর সেটি দিয়ে তারা বেশ চলে যাচ্ছে। এখন আশা করি আপনার বাংলাদেশে এফ কমার্সের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। আর যদি এর গুরুত্ব নিয়ে এখনো কোনো সন্দেহ থেকে থাকে তবে আপনি এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছেন নিজেকে আরো আপডেট করুন নয়তো পিছিয়ে পড়বেন।


৪. এফ কমার্সের জন্য কি ওয়েবসাইট দরকার?


প্রথমত এফ কমার্স নাম বলতে গেলেই সাথে সাথে আরো একটি নাম আসে সেটা হচ্ছে ই-কমার্স। আর ই-কমার্সের ক্ষেত্রে আমরা ওয়েবসাইট ব্যবহার করি বিধায় আমরা মনে করে থাকি যে এফ কমার্স করতেও হয়তো ওয়েবসাইট দরকার। কিন্তু আসলেই কি এফ কমার্স করতে ওয়েবসাইট দরকার। এখানে মূলত আমার দুটি উত্তর রয়েছে। দরকার আবার দরকার না। হ্যা ঠিকই শুনেছেন। থাকলেও ভালো না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। ওয়েবসাইট থাকতে হবে এফ কমার্সে এমন কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। তবে থাকলে হচ্ছে একটা স্ট্যান্ডার্ড আর কি। কারণ আপনি যখন নিয়ত করেছেন এফ কমার্স করবেন মূলত আপনার যা হাতিয়ার তা হলো একটা ফেসবুক পেইজ বা একটি ফেসবুক গ্রুপ তাই তো? আর টেকটনিক করে ফেসবুক মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার কাস্টমার নিয়ে আসা। এর জন্য ওয়েব সাইটের দরকার নেই। বাংলাদেশে বেশিরভাগ এফ কমার্স ব্যবসায়ীর ওয়েব সাইট নেই।


৫. নিশ সিলেকশন


আপনি কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ করবেন সেটিই হচ্ছে আপনার নিশ। নিশ সিলেকশনে আপনি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে এগোবেন। কেননা যে প্রোডাক্ট আপনি বোঝেন না জানেন না তা নিয়ে না আগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা আপনি কোনো কিছু নিয়ে ব্যবসা করতে চাইলে আপনার সে প্রোডাক্টের সার্বিক বিষয়ে ধারণা থাকতেই হবে। না থাকলে আপনার সেই ব্যবসা লাভ হবে বলে মনে হয় না। আরেকটা বিষয় যে পণ্য বা সেবা নিয়ে আপনি ব্যবসা করছেন সেটা কি আপনার জন্য লাভজনক কিনা সেটিও ভাববেন নতুবা এটা আপনার পিছিয়ে পড়াও অসম্ভব কিছু না।


আজ ছিলো এই আর্টিকেলের প্রথম পার্ট। আরো পাঁচটি পার্ট আসবে। মোট ৬টি পার্টে আমরা এই আর্টিকেল শেষ করবো।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.