এরদোগানের নেতৃত্বে বদলে যাবে তুরষ্ক


যদি আপনাকে বলা হয় যে, বর্তমান বিশ্বে মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে কোন দেশ? আপনার উত্তর কি হবে? এখানে যদি জরিপ করা হয় তবে একেকজন একেকরকম উত্তর দিবে। কেউ বলবে সৌদি আরব, কেউ বলবে ইরান, কেউবা বলবে কাতার, কুয়েত ইত্যাদি দেশ। কিন্তু আপনার করা উক্ত চিন্তা করা দেশগুলো কি আদৌ নেতৃত্ব দিচ্ছে? আচ্ছা মানলাম নেতৃত্ব প্রদানকারী দেশ হয়তো বিভেদ থাকতেই পারে থাকাটাই স্বাভাবিক। আচ্ছা এবার বলুন তো মুসলিমদের মধ্যে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সাহসী, ন্যায়পরায়ন নেতা কে? এখানে হয়তো অনেকে এক সূত্রে মিলে যাবেন। কেননা এখানে সকলেই একজনকেই সত্যিকারের নেতা মানেন। সে হচ্ছে তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তৈয়ব এরদোয়ান। এখন বলতেই পারেন এত প্যাচানোর কি ছিলো? এরদোয়ান যদি বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সেরা নেতা হন তবে তুরষ্ক তো নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্র। হ্যা আদোতে সেটা হবার কথা ছিলো। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতা তুরষ্ককে সেটা হবার সুযোগ দিচ্ছে না এত সহজে। ১৯২৩ সালে করা লুজার্ন চুক্তির ফলে তুরষ্ক অনেক কিছু থেকে পিছিয়ে আছে। তবে এই ১০০ বছরের চুক্তি শেষ হবে ২০২৩ সালে। আর তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তৈয়ব এরদোয়ানের নেতৃত্বে বদলে যাবে তুরষ্ক আর হাল ধরবে বর্তমান ভঙ্গুর মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব।


একসময় এই তুরষ্কে বহাল ছিলো অটোম্যান সাম্রাজ্য। তারা প্রায় ৬০০ বছরের অধিক সময় ধরে শাসন করেছে তারা। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের হেরে যায় মিত্রপক্ষ আর জিতে যায় বিরোধীরা। আর যার ফলে পতন হয়ে যায় অটোম্যান সাম্রাজ্যের। তবে তাদের পতনের শেষ প্যারেকটা ঠুকে যায় মূলত ১৯২৩ সালে লুজান চুক্তিতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরষ্ক পরাজিত হলেও পরবর্তী ছোটখাটো যুদ্ধ চলতেই থাকে। এর‌ মধ্যে গ্রীস ও হাঙ্গেরির সাথেও যুদ্ধ অন্যতম। এসময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে তুরষ্কের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দেয়া হয় কামাল পাশাকে। যিনি কিনা একজন সেক্যুলার ছিলেন এবং তিনিই ছিলেন অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারিগর। কামাল পাশাকে মূলত হাতিয়ার বানায় ইউরোপীয়রা এবং আমেরিকানরা। কেননা তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো বিশ্ব থেকে ইসলামকে নিশ্চিন্হ করে দেয়া। আর ১৯২৩ সালে প্রায় ৭ মাস ধরে আলোচনার পর সুইজারল্যান্ডের লুজানে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয় যা কুখ্যাত লুজান চুক্তি নামে পরিচিত। সেখানে অটোম্যান সাম্রাজ্যকে তো ধ্বংস করা হয় তো হয় এমনকি তুরষ্ককে পরিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে দেয়া হয়। 
সেই চুক্তির ফলে বসফরাস প্রণালী যেখান দিয়ে ইউরোপ হতে এশিয়া এবং এশিয়া হতে ইউরোপে ব্যবসায়ের জন্য পণ্য নেয়া হয়। এর জন্য কোনো টোল নিতে পারে না তুরষ্ক। এছাড়া তুরস্ক তেল উৎপাদন করতে পারতো না এমনকি নিজেদের দেশেও। যেখানে বিশ্ব চলছে তেল উৎপাদন এর উপর। সেখানে তারা তেল উৎপাদন করতে পারবে না। আরো ছিলো আরবে তারা আর কোনো কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এমনকি আরবীতে আযান দিতে পারবে না, বোরখা হিজাব পড়া যাবে না। মুহুর্তের মধ্যেই একটি ইসলামিক রাষ্ট্রকে সেক্যুলার রাষ্ট্রে পরিণত করা হলো এমনকি একটা জাতিকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হলো। এই তুরষ্ক এমন ছিলো যে কেউ ইসলাম নিয়ে কিছু বললে দমিয়ে ফেলা হতো এবং তাকে ইসলামিষ্ট বলে দমন করা হতো।


তবে এই দেশের আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তৈয়ব এরদোয়ান। তিনি এমনভাবে এই দেশ চালাচ্ছেন যেন মুসলিম বিশ্ব আবারো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া এই রাষ্ট্রে বহির্বিশ্বের তোয়াক্কা না করেই তিনি ইসলাম ফিরিয়ে আনেন। এবং দেশের ভেতর যারা তার অবাধ্য করে তাদেরকেও দমন করতে সক্ষম হয়েছেন। 
এই রিসেপ তৈয়ব এরদোয়ানকে নিয়েই মুসলিম বিশ্ব এখন স্বপ্ন বুনছে‌। হয়তো এই তুরষ্ককে নিয়েই আবারো ইসলামের পতাকা উড়াবে মসুলমানরা। ২০২৩ সালের পর নতুন তুরষ্ককে দেখতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী‌। রিসেপ তৈয়ব এরদোয়ান থাকলে মসুলমানরা নেতৃত্বহীন হবে না। বরং এরদোগানক নিয়ে নতুন মুসলিম শাসনের স্বপ্ন বোনা শুরু।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.