জনপ্রিয়তার শীর্ষে দিরিলিস আর্তুগ্রুল

ধীরে ধীরে আরো জনপ্রিয় হচ্ছে জনপ্রিয় তুর্কি ওয়েব সিরিজ দিরিলিস আর্তুগ্রুল। জনপ্রিয় এই সিরিজটি ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হয়ে সিরিজটি শেষ হয়ে গিয়েছে। সিরিজটি মূলত মধ্যযুগে মসুলমানদের ঐতিহ্যবাহী শাসনামল ওসমানীয় শাসনামল তথা ওসমানীয় সাম্রাজ্যকে ঘিরে তৈরি করেছে। এটি মূলত ওসমানীয় সাম্রাজ্য তথা অটোম্যান এম্পায়ারের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম ওসমানের পিতা আর্তুগ্রুল গাজীর জীবনী নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তৈয়ব এরদোয়ান ক্ষমতায় আসার পর তুরষ্কের মতো সেকুলার রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করতে থাকেন। যার মধ্যে এই দিরিলিস আর্তুগ্রুল একটি ড্রিম প্রজেক্ট। কেননা তিনি চেয়েছিলেন তুরষ্কের মসুলমানদের বোঝাতে তারা কি ছিলো আর এখন কি হয়েছে। যার জন্য এই দিরিলিস আর্তুগ্রুল দিয়ে মসুলমানদের জাগ্রত করা রিসেপ তৈয়ব এরদোগানের মূখ্য উদ্দেশ্য। 


দিরিলিস আর্তুগ্রুল ২০১৪-২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছিলো। এটি ৫টি সিজনে বিভক্ত। প্রথম সিজনের প্রথম পর্ব প্রচারিত হয়েছিলো ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর এবং এর পঞ্চম মৌসুমের শেষ পর্ব প্রচারিত হয়েছিলো ২৬শে মে ২০১৯। ৫টি সিজনে মোট ১৫০টি পর্ব প্রচারিত হয়েছিলো। তবে বিখ্যাত অনলাইন মুভি স্ট্রিমিং সাইট নেটফ্লিক্সে মোট ৪৪৮ টি পর্ব রয়েছে। সাধারণত প্রতিটি পর্ব ২ঘন্টা ১৫ মিনিট ব্যাপী হয়ে থাকে। আর নেটফ্লিক্সে ৪২-৪৫ মিনিটের মতো সম্প্রচার হয়ে থাকে। বর্তমানে এটির প্রচার শেষ হবার পর এর পরের পার্ট অর্থাৎ, উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম ওসমানের গল্প অর্থাৎ আর্তুগ্রুল গাজীর ছেলে ওসমানের কাহিনী নিয়ে নির্মিতি হচ্ছে কুরুলুস ওসমান। দিরিলিস আর্তুগ্রুল এর প্রথম সিজনে মোট ২৬টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, দ্বিতীয় সিজনে মোট ৩৫টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, তৃতীয় ও চতুর্থ সিজনে মোট ৩০টি পর্ব করে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এবং পঞ্চম ও শেষ সিজনে মোট ২৯টগ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। 


দিরিলিস আর্তুগ্রুল শুধুমাত্র তুরষ্কে যে জনপ্রিয় তা কিন্তু নয়। এটি এখন তুরষ্কের সীমানা পার করে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম কুড়াচ্ছে। বিশেষত পাকিস্তানে এর ব্যাপক প্রশংসা রয়েছে। পাকিস্তানের এটি এত জনপ্রিয় যে পাকিস্তানের জাতীয় টেলিভিশন পাকিস্তান টেলিভিশন পিটিভিতে উর্দু ভাষায় প্রচার করা হচ্ছে গতবছর থেকে। এখন পিটিভিতে এর তৃতীয় সিজন চলছে।


এটি এখন এত জনপ্রিয় যে এর সাথে গেম অফ থ্রোনসকেও তুলনা করা হচ্ছে। কেন এর এত জনপ্রিয়তা। এটি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন। মূলত ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে বানানো যেকোনো ছবি/নাটক/ওয়েবসিরিজ সব সময় আলাদা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কেননা সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করা এগুলোর প্রতি মানুষের পূর্ব থেকে আগ্রহ প্রবল। আর এটি যখন মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে তখন তো আর কথাই নেই। এটির আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরির হয়েছে। 


তবে এটি বর্তমানে অনেক দেশে চললেও সৌদি আরবে এটি চলে না। এটি এমন নয় যে এটা দেখা হারাম। তবে সৌদি আরবে সৌদি রাজ বংশ আসার আগে এই আরব চালাতো এই তুর্কিরা। তারা নিজেদেরকে আরবের খাদেম বলতো‌ আর যার জন্য সৌদি আরব তুরস্ককে নিজেদের জন্য হুমকি ভাবে। তবে এই সিরিজ ১০০ ভাগ বৈধ। বাংলাদেশেও এই সিরিজের বাংলা ডাবিং শুরু হলেও ডাবিং সংক্রান্ত নীতিমালা ভঙ্গের জন্য এটি প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। 


তবে আশা করা যায় বাংলাদেশে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার জন্য অচিরেই হয়তো এর সম্পুর্ন বাংলা ডাবিং দেখতে পাবো। তবে বাংলাদেশে দিরিলিস আর্তুগ্রুল প্রেমীরা বসে নেই। তারা বাংলা সাবটাইটেল দেখে এর স্বাদ নিয়েছে। 


দিরিলিস আর্তুগ্রুলের পর এখন প্রচার হচ্ছে কুরুলুস উসমান। এই সিরিজগুলো পরিবার নিয়ে দেখার মতো এক সিরিজ। এগুলো যে শুধু বিনোদনের জন্য তা নয়। বরং আমাদের মুসলিম জাগরণের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানার জন্য আমাদের সকলের উচিত এই সিরিজটি দেখা।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.