“তরুণদের চোখে বঙ্গবন্ধু “

নেতা এবং নেতৃত্ব এ দুটি গুণ সবার মাঝে থাকে না। একজন যোগ্য নেতা সবাই হতে পারে না। এটাকে আমরা ” বাই বোর্ন ” বা জন্মগত বলতে পারি। আবার সময়ের পরিক্রমায় একজন সাধারণ ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। একজন যোগ্য নেতা সে যে শুধুমাত্র তার সমাজকে বদলে দিতে পারে তা নয় বরং একটি গোটা বা গোটা রাষ্ট্রকেও বদলে দিতে পারে। একজন যোগ্য নেতা হতে পারে সকলের আদর্শ। হতূ পারে কারো বদলে দেওয়ার কারিগর। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো অনেক মানুষ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। নেতৃত্ব ও নেতা এ দুটির সংজ্ঞা যদি দাঁড়া করাই তাহলে ” নেতৃত্ব হচ্ছে এমন একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যার প্রভাবে বা তার সাহায্যে মানুষ কোনো একটি সার্বজনীন কাজ সম্পন্ন করার জন্য অন্যান্য মানুষের সহায়তা ও সমর্থন লাভ করতে পারেন।” ” আর যে বাক্তি নেতৃত্ব প্রদান করে থাকেন কোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে যান সে বাক্তি হচ্ছে নেতা। নেতা হচ্ছেন সমাজের একজন হিরোর মতো। হিরোরা যেমন ছবিতে অভিনয় করে সকলের মনে একটা স্থান করে নেয়। আর বাস্তবজীবনের হিরোরা বাস্তবেই বদলে দেন সমাজ বা রাষ্ট্রকে। আর হয়ে উঠেন বাস্তব জীবনের একজন সত্যিকারের হিরো।


প্রতিটি দেশেই এরকম একজন নেতা বা রিয়েল হিরো যাই বলি না কেন তার আবির্ভাব ঘটেছে। যারা কিনা একটি দেশ, সমাজ, বড়, ছোট, তরুণদের জন্য আদর্শ। হ্যাঁ প্রতিটি দেশের তরুণরা একটি বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তরুণরাই পারে আগামীর‌ সমাজকে বদলে দিতে। তরুণদের ক্ষমতা রয়েছে নতুন দিগন্তের সূর্য উন্মোচন করতে। আর এই তরুণরাও কারো না কারো আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কিছু করে থাকে। আমাদের এই আদর্শ খোঁজার জন্য বাইরে কোথাও তাকাতে হবে না আমাদের দেশেই রয়েছে তরুণদের আদর্শ। যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণরা জয়ের গাণ গাইতে পারবে। সে আর কেউ নয় সে আমাদের বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তরুণদের আদর্শ এর জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হতে পারে সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তার জীবনী জানলে ও পড়লে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হবে তরুণরাই। তার জানবে বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের সুপারহিরো বাংলাদেশের জনক, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাফল্য গাঁথার ইতিহাস। আজকে তরুণরাই হতে পারে আগামীর সোনার বাংলা গড়ার কারিগর। আজকের তরুণরাই হবে আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। আজকের তরুণরাই হবে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাই তো এই দেশের হাল ধরতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। আর তরুণদের জানতে হবে এই দেশের সত্যিকারের রিয়েল সুপার হিরো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস।

তাই বলা যায়,

                                                                                                 " তারুণ্যের জয়গান
                                                                                                                তারুণ্যেই শক্তি।
                                                                                                   তারুণ্যেই উজ্জীবনী
                                                                                                                তারুণ্যেই দীপ্তি।"

আমাদের জানতে হবে ইতিহাস। কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তরুণদের আদর্শ? কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়? কেন তিনি রাজনৈতিক দল মত থেকে সবকিছুরই উর্ধ্বে। আর তাই আমাদের ইতিহাস জানতে হবে। ইতিহাসকে লালন করতে হবে। আমাদের দেশের ইতিহাসকে যদি আমারা না জানি তবে আমরা কিভাবে দেশপ্রেমিক হবো? কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করবো। আর আমাদের তরুণদের উচিত নিজের দেশকে জানা, দেশের ইতিহাস জানা, নিজের দেশের ইতিহাস নিজের বুকে ধারণ করা। আর সকলকে জানানো।

পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছেন যারা তাদের কাজের দ্বারা অমর হয়ে আছেন। যাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বরূপ কোনো এক পরাধীন জাতি তারা স্বাধীন জাতি হিসেবে পরিণত হতে পেরেছে। এই নেতারা একটি দেশের পথপ্রদর্শক বা আলোর দিশারী হিসেবে এসেছেন। পৃথিবীর এরকম শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোর মধ্যে একজন হচ্ছেন বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সফল এক রাষ্ট্রনায়ককে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্রিটিশ হাউজ অফ লর্ডসের সদস্য ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শীর্ষস্থানীয় নেতা যোদ্ধা ফেনার বকওয়ে বলেছেন, ” গান্ধী, নকুমা, লেনিন রোজলিনবার্গ, লুমূমবা, ফিদেল কাস্ত্রো ও আলেন্দের সঙ্গে মুজিবের নামও উচ্চারিত হবে। কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রোর নাম আমরা সকলেই জানি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফিদেল ক্যাস্ট্রোর এক বিখ্যাত উক্তি, ” আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। এবার পাশের দেশ ভারতের দিকে যাওয়া যাক। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে আবুল কালাম আজাদকে আমরা চিনি না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। এ.পি.জে আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ” বঙ্গবন্ধু নিজেই ছিলেন” ঐশ্বরিক আগুন ” এবং তিনি নিজেই সে আগুনে ডানা যুক্ত করতে পেরেছিলেন।”
এমন আরো অনেক বড়বড় ব্যক্তিরা তাকে নিজ ভাষায় মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন।

যেই তরুণদের নিয়ে এই লেখা। এই তরুণদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় স্বপ্ন দেখতেন। তিনি সবসময় তরুণদের জয়গান গাইতেন। তরুণদের নিয়ে ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন তা পূরণে যে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান করতেন সবসময়। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ” এই দেশের যদি ভাগ্য পরিবর্তন করতে হয় তবে এই দেশের বেকারত্বের সমস্যা হবার আগে দূর করতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে তরুণ সমাজ। তরুণরা বেকার বসে থাকলে এই দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের তারুণ্যকে পুঁজি করে তাদের চেতনায় এই শস্য শ্যামলা সবুজ এই বাংলাকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে হবে।”
তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণদের প্রতি আস্থা রেখেছেন বেশি। অর্থ্যাৎ তরুণদের নিয়ে যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এই স্বপ্নবাজ মানুষটির জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতেই হবে নাহলে যে সোনার বাংলার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশ আজ পিছিয়ে নেই। এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের তরুণরাই এগিয়ে নিচ্ছে দেশকে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন পুরো বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। পোশাক ও জনসংখ্যা রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা এখন নিছক সঙ্গীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং তা বাস্তবেও প্রতিফলিত হচ্ছে। মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু এগুলো তার উদাহরণ। আর এই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের এগিয়ে আসাতে।

বঙ্গবন্ধু এই দেশকে স্বাধীন করতে যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন তা অবশ্যই সকল তরুণদের জন্য অনুকরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ স্বাধীনের ব্রততে নেমেছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি জেলে বন্দী ছিলেন। কিন্তু প্রতিবাদী শেখ মুজিবুর রহমান বসে থাকেননি। তিনি অনশন করতে থাকেন জেলের ভেতরে বসেই। অসুস্থ হয়েও হাল ছাড়েননি, চালিয়ে গিয়েছিলেন অনশন। এদেশের মানুষদের মনে বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দান ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ) দাঁড়িয়ে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন তা এখনো দাগ কেটে রয়েছে। সেই ভাষণের দুটি কথা যা এখনো শুনলে বাঙালিদের গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যায়। নিচে কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

                                                                                   "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
                                                                                      এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

বঙ্গবন্ধুর আরো একটি উক্তি ছিলো সেই ভাষণে
” তোমাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকো। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।”

আমরা যারা তরুণরা রয়েছি তাদের শুধু মুখেই সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না। বরং তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের উন্নয়নে সোনার বাংলা গড়ার কাজ করতে হবে। তবেই হবে আমাদের সোনার বাংলা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করতে পারলে এই তরুণরাই এই দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারবে।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.