নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ পারবে তো?


সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে ম্যাচ ও ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। নিউজিল্যান্ডে খেলা বাংলাদেশের জন্য তেমন সুখকর কখনোই ছিলো না। শুধু বাংলাদেশ বললে ভুল হবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ভুগতে হয়। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত প্রায় নিউজিল্যান্ডে সফর করে গিয়ে ভুগতে থাকে। আর বাংলাদেশ তো এই নিউজিল্যান্ডে নিয়মিত সফর করে না তাই বলাই যায় বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটা পাহাড়সম কঠিন হতে যাচ্ছে। আর সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স খুব একটা সন্তোষজনক নয়। আর তাই বাংলাদেশ এই নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যাকফুটে থাকবে তা বলাই বাহুল্য। 


তবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কি সামর্থ্য নেই নিউজিল্যান্ডকে হারানোর? অবশ্যই আছে। আমি সে বিষয়ে আসছি না। কারণ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজেকে অনেক উপরে নিয়ে যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে তেমন একটা না হলেও ওয়ানডেতে অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি দল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের সামর্থ্যের এই প্রমাণ দিয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে কেন নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে এত চাপে আছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল? অবশ্যই এই প্রশ্ন আসাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে দলের দক্ষতা নিয়ে এখানে প্রশ্ন তোলাটা অযৌক্তিক হবে। তবে শুধু দক্ষতা দিয়েই তো আর সব হয় না এর সাথে আরো কিছু ছোট বড় বিষয় জড়িত আছে। সেগুলো বাদ দিয়ে সফলতা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।


অনেক তো কথা হলো এবার আসল কথায় আসা যাক। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পিছিয়ে থাকার মূল কারণ নিয়ে এবার কথা বলবো। মূলত পিচ এবং কন্ডিশন এই দুই দিকগুলো শুধু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল নয় বরং এশিয়ার সকল দেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড। হ্যা প্রথমে কন্ডিশন নিয়ে কথা বলা যাক। তারপর বলবো পিচ নিয়ে। কন্ডিশন যদি বলেন তবে এশিয়ার কন্ডিশন আর অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন কখনোই এক হবে না এটাই স্বাভাবিক। আর তাই বাংলাদেশ যখন এই কন্ডিশনে যাবে তখন এখানে খাপ খাইয়ে নেয়াটা অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। আর যদি সাথে থাকে বাতাস তাহলে তো কথাই নেই। তখন এই বল খেলতে অনেক সময় ব্যাটসম্যানদের অসুবিধা হয় এছাড়া বোলারদের ও সমস্যা হয়। তবে এখানে নিউজিল্যান্ডের যেহেতু এটা হোম কন্ডিশন তারা এখানে খেলে অভ্যস্ত তাই তারা বুঝতে পারে কখন কি করতে হবে। তবে এই কন্ডিশন কিন্তু মূল সমস্যা তৈরি করে না।


মূল সমস্যা তৈরি করে পিচ। হ্যা পিচ। কারণ এই পিচটা একেবারে অন্যরকম এশিয়ার পিচ থেকে। এশিয়ার পিচ গুলো মূলত তৈরি করা হয় স্পিনারদের সুবিধার কথা চিন্তা করে। আর এই নিউজিল্যান্ডের পিচ তৈরি করা হয়েছে পেসারদের সুবিধার কথা চিন্তা করে। আর এখানেই মূল পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ এই বাংলাদেশ হোম কন্ডিশনে স্পিন বান্ধব পিচে খেলে অভ্যস্ত। আর তাই তারা পেস বান্ধব পিচে কখনোই তেমন আলাদা সুবিধা আদায় করতে পারে না। কিভাবে পারবে? বাংলাদেশ সারা বছর স্পিনবান্ধব পিচে খেলে অভ্যস্ত। আর নিউজিল্যান্ডের এই পিচে অনেক সময় অতিরিক্ত বাউন্স হয় যা মোকাবেলা করা কষ্টকর হয়। আর আপনারা তো জানেনই যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বরাবরের মতো শর্টবলে দুর্বল। আর এই পিচগুলোর টার্ন অস্বাভাবিক। আপনাকে বুঝে উঠতেই হিমশিম খেতে হবে ।


তবে আর যাই হোক বাংলাদেশের সকলের আশা থাকবে যেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল সিরিজে ভালো করুক এবং জয় নিয়ে ফিরে আসুক। তবে বাংলাদেশ দল যেহেতু সেই কন্ডিশনে নিয়মিত খেলে না আর সেই পিচ গুলো যেহেতু অনুকূলে থাকে না তাই প্রত্যাশার পারদটা একটু নিচে রাখাই উত্তম। তবে আপাতত চাওয়া বাংলাদেশ সেরাটা দিয়ে খেলেই ফিরে আসুক। 

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.