স্বরূপে সেই মেসি


লিওনেল মেসি ও বার্সেলোনা যেন একে অপরের পরিপূরক। বার্সেলোনায় যখন তিনি পা দিয়েছিলেন তখন বার্সেলোনার অবস্থা একটু খারাপ ছিলো। আর তিনি যখন বার্সেলোনায় পা দেবার পর বার্সেলোনা ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ইউরোপ জায়ান্ট হতে শুরু করে এফসি বার্সেলোনা। আর বার্সেলোনাও বুঝতে শুরু করে তারা এক খাটি হীরা পেয়েছে। বার্সেলোনাও তাই চেয়েছিলো এই খাটি হীরার সদ্ব্যবহার করতে। মেসিও তার যথাযথ প্রতিদান দিতে সমর্থ হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি এফসি বার্সেলোনার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। তিনি বার্সেলোনার ভালো সময়ের যেমন সঙ্গী ছিলেন তেমনি এখন খারাপ সময়েও সঙ্গ দিচ্ছেন। কেননা এই দুর্দিনে তো বার্সেলোনার তো মেসিকেই বেশি দরকার।
তবে চলতি মৌসুমে লিওনেল মেসির শুরুটা হয়েছিল এক বিতর্ক নিয়ে। শুরুতে ক্লাব ছাড়া নিয়ে এক হাঙ্গামা তৈরি হয়। তবে নামটা যখন লিওনেল মেসি যে কেউ চাইবেন তাকে ধরে রাখতে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা বিষয় কি যদি তার ইচ্ছা না থাকে তাহলে কি ধরে রাখা যায়? কিন্তু ঐ যে নামের ভাড়েই তাকে কেউ ছাড়তে চাইবে না। তেমনি বার্সেলোনাও মেসি ছাড়তে চাইলেও তাকে অনেকটা জোড় করে আটকে রেখে দিয়েছিলো। এফসি বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তামিউ তাকে চাপে ফেলে বার্সেলোনাতেই রেখে দেয়। তবে মেসির কাছে সুযোগ ছিলো বার্তামেইউকে পাত্তা না দিয়ে আদালতের সরণাপন্ন হতে‌। কেননা আদালতের সরণাপন্ন হলে মেসির জয় নিশ্চিত ছিলো। তবে মেসি সেটা করেননি ক্লাবের প্রতি ভালোবাসার জন্য। মেসি সেবার গোল ডট কমে বলেছিলেন, ” আমি চাইলে পারতাম বার্সেলোনাকে আদালতে দাড় করাতে। কিন্তু আমি বার্সেলোনাকে খুব ভালোবাসি। আর আমি চাইনি বার্সেলোনাকে আদালতে নিয়ে যেতে।”
তবে ঐ যে বললাম জোর করে তো কোনোকিছু হয় না। তেমনি বার্সেলোনা মেসিকে জোর করে আটকে রেখে দিলেও মৌসুমের শুরু থেকে মেসির খেলা মেসি সুলভ ছিলো না। কেননা মেসি মানেই হলো গোলের ছড়াছড়ি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে গোল যেন ছিলো মেসির অধরা। মানে যা ছিলো মেসির নামের সাথে বেমানান। মেসির সাথে বেমানান দেখালে কি ভালো লাগবে বলুন? অবশ্যই লাগবে না তাই না? আর তাই মেসিও জ্বলে উঠতে সময় নেননি। 
স্প্যানিশ লা লীগায় এফসি বার্সেলোনার প্রথম ৬ ম্যাচে মাত্র ১ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। আর প্রথম ১৫ ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা ছিলো ৭টি। যদিও সাধারণ ফুটবলারদের জন্য এটাই অনেক। কিন্তু নামটা যখন লিওনেল মেসি তখন প্রত্যাশার পারদটা একটা বাড়তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক তাই না? কিন্তু ঐ মেসি এক অনিশ্চয়তার নাম। সে কখন কি করে তা বলাই মুশকিল। মৌসুমের শুরুতে যে কিনা ছিলো ব্যাকফুটে এখন মৌসুমের অর্ধেক পাড়ি দেবার পর কিনা সেই মেসি এখন লাশ লীগার শীর্ষ গোলদাতা। গতকাল এলচের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর লিওনেল মেসি চলতি লা লীগায় গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থানে উঠে আসেন। 
বর্তমানে স্প্যানিশ লা লীগায় মেসির গোলসংখ্যা হচ্ছে ১৮টি, আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসির বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ। লুইস সুয়ারেজের গোলসংখ্যা হচ্ছে ১৬টি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে লীগের শুরুতে যে মেসি কিনা গোল খরার মধ্যে ছিলো সেই মেসি সর্বশেষ ৭টি লীগ ম্যাচে করেছেন ১১টি গোল। আর এটিতেই প্রমাণিত হয় যে লিওনেল মেসি ফুড়িয়ে যান নি। তিনি এখনো স্বমহিমায় রয়েছে ফুটবলের সিংহাসনে। 
লীগের এখনো ২৪ ম্যাচ খেলেছে এফসি বার্সেলোনা। আরো ১৫ টি ম্যাচ রয়েছে এফসি বার্সেলোনার। বলাই বাহুল্য মেসি এখন যেভাবে গোল দেয়া শুরু করেছে তাতে করে আরো কত যে গোল হবে তা হয়তো বলা মুশকিল। আর এই গোলের ধারা অব্যাহত থাকলে ৮ম পিচিচি ট্রফিটা পেতেই পারেন বার্সা অধিনায়ক। এছাড়া ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুয়ের দৌড়েও কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.